শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন
ডেস্ক রিপোর্ট ॥ আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতির প্রতীক মহান মে দিবস আজ দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের শ্রমিক আন্দোলনের স্মৃতিকে ধারণ করেই মে দিবসের সূচনা। আট ঘণ্টা কর্মদিবস প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ১১ শ্রমিক নিহত হন। সেই আত্মত্যাগ বিশ্ব শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
বাংলাদেশেও প্রতিবছরের মতো সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত; আসবে এবার নব প্রভাত’। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাজসজ্জা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সমাবেশ করবে এবং বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। জাসদ ও জাতীয় পার্টিও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
তবে উদযাপনের আড়ালে শ্রমিকদের বাস্তব জীবন সংগ্রামে ভরা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ দিনমজুর অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। স্বল্প মজুরি ও কর্মসংস্থানের অভাব তাদের জীবনমান উন্নয়নের পথে বড় বাধা। তাপপ্রবাহ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে।
নারী শ্রমশক্তির ক্ষেত্রেও বৈষম্য স্পষ্ট। কৃষিখাতে নারীর অংশগ্রহণ ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও শিল্পখাতে মাত্র ৮ দশমিক ৭ শতাংশ নারী কাজ করেন। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের হার ৮১ দশমিক ১ শতাংশ।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শ্রমিকদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে মে দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকদের দেশের উন্নয়নের মূল শক্তি উল্লেখ করে শ্রমবান্ধব নীতি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কঠোর পরিশ্রমের পরও তাদের জীবনযাত্রা উন্নত হয়নি। মোহাম্মদপুরের রিকশাচালক রবিউল ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। নির্মাণশ্রমিক আব্দুর রহমান তীব্র গরমে কাজের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
Leave a Reply